13 September 2017 News

রানিগঞ্জে পুরোনো বাড়ি ভাঙা হোক, চাইছে নাগরিক সমিতি

জীর্ণ বাড়ি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনও সময়৷ অতীতে এমন উদাহরণের অভাব নেই৷ তাই দুর্ঘটনা এড়াতে প্রাচীন ভগ্নপ্রায় বাড়িগুলি ভেঙে ফেলা দরকার , এমনটাই চাইছেন শহরের বিশিষ্ট বাসিন্দারা৷ সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আসানসোল পুর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি রানিগঞ্জের ব্যবসায়ী , অধ্যাপক , বণিকসভার সদস্য থেকে নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা৷ ইতিমধ্যে ৪৩টি বাড়ি চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ৷ রানিগঞ্জে এই ধরনের বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে যদি কোনও ভাবে তাঁদের সাহায্য লাগে তাহলে পুরসভার পাশের থাকার কথা জানিয়েছেন শহরের বিশিষ্টজনেরা৷ জেলার প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে অন্যতম রানিগঞ্জ৷ শুধুমাত্র কয়লা খনি বা বড় ব্যবসা ক্ষেত্র হিসেবে নয় , এক সময় রানিগঞ্জে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল৷ ফলে তখনও যে শহর বেশ জমজমাট ছিল তা বোঝা যায়৷ এমনকি আসানসোলের আগে রানিগঞ্জ ছিল মহকুমা শহর৷ তখনকার বাড়িগুলি বর্তমানে জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছে৷ এখানে ৭০ থেকে ১০০ বছরের বাড়ির সংখ্যা অনেক৷ সেই বাড়িগুলির বেশির ভাগই নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়ার অবস্থায় রয়েছে৷ এই বাড়িগুলিই ভেঙে দিতে চাইছেন পুর কর্তৃপক্ষ৷ কিন্ত্ত এ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে অনেক৷ আবার শরিকি সমস্যাও প্রচুর৷ এই পরিস্থিতিতে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সমস্ত মানুষ এগিয়ে এলে কাজটা অনেক সুবিধা হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল৷ যদিও মৌখিক ভাবে সকলে আশ্বাস দিলেও কার্যক্ষেত্রে কতজন পাশে এসে দাঁড়াবেন সেটাই এখন দেখার৷

নাগরিক সমিতির সম্পাদক রবীন্দ্র সিং বলেন , ‘প্রথমে ওই সমস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের বোঝাতে হবে যে , এখানে বসবাস করলে শুধু তাঁদের নয় , অন্যেরও বিপদ হতে পারে৷ সচেতনতার মাধ্যমেই সমাধানের জায়গায় পৌঁছতে হবে৷ ’ আর আর রোডের বাসিন্দা সমাজকর্মী দীনেশ গুন্তা বলেন , ‘এটা রানিগঞ্জের একটা বড় সমস্যা৷ আগে চুন সুড়কি দিয়ে বাড়ি তৈরি হত৷ তার তো একটা জীবন আছে৷ সেই সঙ্গে বাড়িগুলি সংস্কারের অভাব স্পষ্ট৷ তাই দুর্ঘটনা এড়াতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িগুলি ভেঙে ফেলা উচিত৷ ’ রানিগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান উপদেষ্টা রাজেন্দ্র প্রসাদ খৈতান বলেন , ‘বছর তিনেক আগে সীতারাম ভবনের কাছে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি বাড়ি আচমকা ভেঙে পড়ে৷ সেই সময় অবশ্য প্রাণহানির কোনও ঘটনা ঘটেনি৷ কিন্ত্ত এ ভাবে বাড়ি ভেঙে পড়লে প্রাণহানি হতেই পারে৷ ‘সি আর রোড এবং এন এস বি রোডে দু’টি বিপজ্জনক বাড়ি আমরা ভেঙে দিয়েছি৷ এ ছাড়া ৪৩টি বাড়িকে আমরা নোটিস দিয়েছি৷ বাকি বাড়িগুলিকে চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে৷ এই সব বাড়ির অধিকাংশ এনএসবি রোড , এমজি রোড , সিআর রোড , ইস্ট কলেজ পাড়া , কুমার বাজার , গীর্জা পাড়া , শিয়ারসোলে রয়েছে৷ শুনানির পর নোটিস দেওয়া হবে৷ তার পর বাড়ির মালিকরা না ভাঙলে পুরসভার পক্ষ থেকে ভেঙে দেওয়া হবে৷ ’ (চলবে )রানিগঞ্জে বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্তে খুশি বণিকসভা ও বিশিষ্ট জনেরা শহর কলকাতা কিংবা আসানসোল , বিপজ্জনক বাড়ি মাথাব্যথার কারণ হয়েছে প্রশাসনের৷ কোথাও মাথা গোঁজার অন্য জায়গা নেই, কোথাও আইনি জটিলতায় বাধা পাচ্ছে বাড়ি ভাঙার কাজ৷ গত রবিবার শহরের প্রধান বাজারে একটি বাড়ি ভেঙে পড়তেই ফের এ নিয়ে শোরগোল উঠেছে৷ শহরে বিপজ্জনক বাড়ির চিত্র ঠিক কী ? আজ তৃতীয় কিস্তিজীর্ণ বাড়িরানিগঞ্জের এনএস রোডে একটি বিপজ্জনক বাড়ি৷

Source: বিশ্বদেব ভট্টাচার্য (Eisamay)

সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে কয়লা চোর, বিপদে খনি

ভূগর্ভে ইসিএলের চালু খনি রয়েছে। তার উপরেই চলছে বেআইনি খনন। অবৈধ ভাবে কয়লা তোলার মতলবে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এগোচ্ছে দুষ্কৃতীরা। আর কিছুটা এগোলেই সে সুড়ঙ্গ গিয়ে পড়বে বৈধ খনিতে। অবৈধ খনির এমন দাপটে তাঁদের খনি দিনে দিনে বিপন্ন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন ইসিএলের কুনস্তরিয়া এরিয়া কর্তৃপক্ষ।
ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, কুনস্তরিয়া এরিয়ার ৩ নম্বর পিটের কাছে টিবি হাসপাতালের পাশে অবৈধ খননের খবর পেয়েছিল সংস্থার নিরাপত্তা বিভাগ। ৬ সেপ্টেম্বর সিআইএসএফ এবং সংস্থার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। ওই একই জায়গা থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর বেআইনি কয়লা, খননের যন্ত্রপাতি, খনি থেকে জল বার করার পাইপ ইত্যাদি। তার পরেই রানিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন এরিয়ার পার্সোনেল ম্যানেজার আবির মুখোপাধ্যায়।

খনির এক আধিকারিক জানান, যেখানে দুষ্কৃতীরা কয়লা কাটছিল, তার ঠিক নীচে ৩ নম্বর পিট। সেখানে প্রতি শিফ্‌টে কয়েকশো কর্মী কাজ করেন। দুষ্কৃতীরা উপরে খানিকটা জায়গায় কয়লা কেটে, সুড়ঙ্গ খুঁড়ে এগোচ্ছে। ফলে, এক সময়ে সুড়ঙ্গ বৈধ খনির চালে পৌঁছে যাবে। তার ফলে খনিতে জল ও বাতাস ঢুকে দুর্ঘটনার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
আবিরবাবু বলেন, ‘‘বিনোদ বাগাড়িয়া ও রাজেশ বাগাড়িয়ার নেতৃত্বে এই বেআইনি খনন চলছে জেনেছি। এরিয়ার মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিক আমাকে বিষয়টি জানানোর পরে পুলিশে তাদের নামে লিখিত অভিযোগ করেছি।’’ পুলিশ জানায়, বিনোদ ও রাজেশের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের নামে এর আগেও কয়লা চুরির অনেক অভিযোগ রয়েছে।
বিনোদ অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘আমি রীতিমতো অসুস্থ। কোনও কাজ করতে পারি না। মিথ্যে মামলা করা হয়েছে। পাল্টা মামলা করার জন্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি।’’ রাজেশরও বক্তব্য, ‘‘মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে আমাদের।’’
স্থানীয় আইএনটিইউসি নেতা তরুণ গঙ্গোপাধ্যায়, সিটু নেতা মনোজ দত্তদের দাবি, প্রায় ন’বছর আগে অবৈধ খননের জেরে বন্ধ করে দিতে হয় নর্থ সিহারশোল কোলিয়ারি। লাগোয়া বেআইনি খাদানে আগুন ধরে গেলে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মাস দেড়েক ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে জামুড়িয়ার নিউকেন্দার ৪ নম্বর খনি। সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত খনিটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ডিরেক্টর জেনারেল অব মাইন্‌স সেফটি (ডিজিএমএস)। অবৈধ খনন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বহু খনিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে তাঁদের দাবি।

Source: নীলোৎপল রায়চৌধুরী (Anandabazar Patrika)