9 October 2017 News

মাছ ধরতে এসে দুর্গাপুর ব্যারেজে তলিয়ে গেল দুই কিশোর

তারা কেউ সাঁতার জানে না। কিন্তু, ঝুঁকি নিয়ে তিন কিশোর রবিবার দুপুরে মাছ ধরতে গিয়েছিল দামোদর নদে। কাল হল সেটাই। দুর্গাপুর ব্যারাজের লকগেটের সামনে দামোদরে তলিয়ে গেল দু’জন। পরে দেহ মেলে তাদের।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টা নাগাদ সাইকেলে চড়ে লকগেটের তিন নম্বর গেটের সামনে জড়ো হয় তিন বন্ধু রোহিত সাহানি, বিশাল বাউরি ও রঞ্জন বাগদি। সকলেরই বাড়ি দুর্গাপুরের মায়াবাজারে। বয়স সতেরো। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছ ধরতে যাওয়ার নাম করে বেরোলেও স্নান করার জন্য জলে নেমেছিল তিন জন। খানিক বাদেই রঞ্জন ও রোহিতকে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। তা দেখে বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে বিশাল। রঞ্জন বলে, ‘‘আমাকে হাত ধরে টেনে বাঁচাতে চেষ্টা করে বিশাল। কিন্তু ও নিজেই আর জল থেকে উঠতে পারল না।’’ তলিয়ে যায় রোহিতও। পুলিশ জানায়, অঙ্গদপুর হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ওই তিন ছাত্রের কেউই সাঁতার জানত না।

রঞ্জন কোনও রকমে পাড়ে ওঠে। তার চিৎকারে জড়ো হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের একাংশ। তাঁরাই জাল, কাঁটা দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খানিক বাদে পৌঁছন লাগোয়া বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার পুলিশকর্মীরা। দুপুর আড়াইটে নাগাদ দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই উদ্ধার হয় রোহিতের দেহ। পরে বড়জোড়া থেকে রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের কর্মীরা এসে মোটরচালিত বোট ও জাল নিয়ে শুরু করেন উদ্ধারকাজ। নামানো হয় ডুবুরিও। বিকেল পাঁচটা নাগাদ উদ্ধার করা হয় বিশালের দেহ।

দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছনোর পরে বিশালের মা সরস্বতীদেবীর আক্ষেপ, ‘‘দামোদরে মাছ ধরতে যাচ্ছি বলে ওরা বেরিয়েছিল। বারবার বারণ করেছিলাম। কিন্তু, শুনল না।’’

এলাকাবাসীর ক্ষোভ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওই এলাকায় বারবার স্নান করা বা মাছ ধরতে গিয়ে বিপদ ঘটছে। মাসখানেক আগে এই একই জায়গায় স্নান করতে নেমে মৃত্যু হয় তিন স্কুল ছাত্রের। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও। বিডিও (বড়জোড়া) পঙ্কজ আচার্য জানিয়েছেন, ওই এলাকায় নজরদারি বাড়াতে আজ, সোমবার পুলিশের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন।

Source: Anandabazar Patrika